UI Upgrade in Progress: We're currently enhancing our website's user interface. You may notice some visual changes while we roll out updates. Thank you for your patience!

Bangla
7 months ago

ঢাকার শীতে 'সাশ্রয়ী' কেনাকাটা: সেরা কিছু গন্তব্য

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি Photo : মো. ইমরান

Published :

Updated :

ব্যস্ততম ঢাকা শহরে শীতের আগমন মানেই ফ্যাশন আর কেনাকাটার ধুম। ছোট বাচ্চাদের শীতপোশাক থেকে শুরু করে বড়দের পোশাক উভয়েরই এই সময়ে বেশ চাহিদা থাকে। তবে স্টাইলিশ শীতের পোশাক মানেই যে অনেক খরচ, তা কিন্তু নয়। ঢাকার এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে তুলনামূলক 'কম' দামে দারুণ সব কালেকশন পাওয়া যায়। আপনি যদি সঠিক জায়গাটি চিনতে পারেন, তবে অল্প টাকার মধ্যেই পুরো শীতের প্রস্তুতি সেরে নেয়া সম্ভব।

নিউ মার্কেট ও নূরজাহান মার্কেট

ঢাকায় যেকোনো সময়ে পোশাক কেনাকাটার জন্য প্রথমেই যে নামটি আসবে সেটি হলো নিউ মার্কেট। সারাবছর কেনাকাটার প্রধান কেন্দ্র হলেও শীতকালে এটি যেন আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। ফ্যাশনসচেতন তরুণ-তরুণীদের অত্যন্ত প্রিয় এই নিউ মার্কেট এবং এর ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত নূরজাহান মার্কেট।

শীতের মৌসুমে প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে নিউমার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত ও ভেতরের দোকানগুলোতে শীতের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসা হয়। ফ্যাশনেবল শীতপোশাক থেকে শুরু করে ক্লাসিক সব পোশাকই পাবেন এখানে। নামী ব্র্যান্ডের (যেমন: এইচ অ্যান্ড এম) আদলে তৈরি জ্যাকেট বা হুডি সহজেই পেয়ে যাবেন।

এছাড়া পাওয়া যাবে, ট্রেন্ডি হুডি, সোয়েটশার্ট, ডেনিম জ্যাকেট, মোজা, ট্রাউজার, উলের সোয়েটার, লেদার বা প্যাডেড জ্যাকেট, বাচ্চাদের কাপড় ও টুপি, কমফোর্টার, কম্বল এবং চাদরসহ আরও অনেক কিছু।

আনুমানিক দাম, ২০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে।

বঙ্গবাজার ও ফুলবাড়িয়া মার্কেট

'সাশ্রয়ী' কেনাকাটার জন্য আরেকটি আদর্শ জায়গা রাজধানীর বঙ্গবাজার। এখানে মূলত 'এক্সপোর্ট কোয়ালিটির' সোয়েটার, জ্যাকেট এবং ব্লেজার পাওয়া যায়, যা মূলত ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সামান্য ত্রুটি বা অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এগুলো এখানে নামমাত্র মূল্যে পাওয়া যায়। ভারী জ্যাকেট, ব্ল্যাঙ্কেট এবং বাচ্চাদের সেট কেনার জন্য এটি সেরা জায়গা।

মিরপুর ১০ (হোপ মার্কেট) ও ১ নম্বর হকার্স মার্কেট

মিরপুরবাসীর জন্য শীতের কেনাকাটার প্রাণকেন্দ্র মিরপুর ১০-এর গোলচত্বর এলাকা। বর্তমানে মিরপুরের হোপ মার্কেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত ও জনপ্রিয়। শুধুমাত্র যারা মিরপুরে থাকেন তারাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ হোপ মার্কেটে যাচ্ছেন তিলনামূলক কম দামে কেনাকাটার জন্য।

এছাড়া মিরপুর ১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট থেকে কাঁচাবাজার পর্যন্ত অসংখ্য শীত পোশাকের দোকান রয়েছে। এখানে একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন মনের মতো শীতের পোশাক। 

এছাড়া পাওয়া যায়, বাচ্চাদের কাপড় ও টুপি, ট্রেন্ডি ক্রপ টপ, ডেনিম জ্যাকেট ও প্যান্ট, ফ্লেয়ার প্যান্ট, টপস, ফ্লানেল শার্ট, জ্যাকেট, টি-শার্ট, সোয়েটার, মাফলার, শ্রাগ, হাত মোজা ও পা মোজা। আনুমানিক দাম ১০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে।

ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ফুটপাত

কর্মজীবী মানুষের জন্য যাতায়াতের পথে কেনাকাটার সেরা জায়গা ফার্মগেট। এখানকার ফুটপাথে অফিসগামী পুরুষ ও নারীদের জন্য ভালো মানের ব্লেজার এবং ফরমাল সোয়েটার পাওয়া যায়। এছাড়া সব বয়সী মানুষের জন্য সোয়েটার, জিন্স, মাফলার এবং হাত-পা মোজাও এখানে সুলভ মূল্যে মেলে।

উত্তরা এলাকার 'সাশ্রয়ী' মার্কেটসমূহ

উত্তরা এলাকাটি এখন শপিংয়ের জন্য বেশ সমৃদ্ধ। আপনি যদি ঢাকার মূল শহরের জ্যাম ঠেলে নিউ মার্কেট বা বঙ্গবাজারে যেতে না চান, তবে উত্তরার ভেতরেই বেশ কিছু 'বাজেটের' মধ্যে এবং ভালো মানের মার্কেট রয়েছে। উত্তরাবাসীদের জন্য 'কম' দামে ভালো শীতের কাপড় কেনার জন্য নিচের জায়গাগুলো সেরা: 

রাজলক্ষ্মী ও আমির কমপ্লেক্স (সেক্টর-৩): একে উত্তরার 'হৃদয়' বলা হয়। আমির কমপ্লেক্সের ভেতরের দোকান এবং সামনের ফুটপাতে তুলনামূলক কম দামে দারুণ সব হুডি, প্যান্ট  জ্যাকেট এবং কার্ডিগান পাওয়া যায়।

উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ও মাসকট প্লাজার ফুটপাত: বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে প্রচুর দোকান বসে। বিশেষ করে ট্রাউজার, ইনার-ওয়্যার, বাচ্চাদের শীতের পোশাক এবং কম্বল এখানে খুব সস্তায় পাওয়া যায়।

কেনাকাটার স্মার্ট টিপস

ঢাকার লোকাল মার্কেটে কেনাকাটা করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

দরদাম করা: এi ধরনের বাজারে কেনাকাটার প্রধান শর্ত হলো ভালোভাবে দরদাম করা।

সঠিক সময় নির্বাচন: ভিড় এড়াতে কর্মদিবসগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মার্কেটে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। অনেকেই দিনে শুরুতে কম দামে পণ্য ছাড়ে।

ত্রুটি পরীক্ষা করুন: যেহেতু এগুলো বেশিরভাগই 'রপ্তানি বাতিল' পণ্য, তাই কেনার আগে চেইন, বোতাম এবং সেলাই ভালো করে দেখে নিন।

সতর্কতা: শীতের পোশাক কেনার পর অবশ্যই তা একবার ভালো করে ধুয়ে বা ড্রাই-ক্লিন করে ব্যবহার করবেন। কারণ এই কাপড়গুলো অনেক সময় গুদামে স্তূপ করে রাখা থাকে।

tahmira48@gmail.com

Share this news